Disease Cure: Siddiqia Eye Foundation & Phaco Center

Disease and Cure Primary Eye Care

প্রাথমিক চক্ষু পরিচর্যা ও সচেতনতা

চোখের প্রধান প্রধান অংশের কাজঃ
# চোখের পাতা দুইটি একটি উপরের পাতা, একটি নিচের পাতা।
# পাতা চোখকে বিভিন্ন প্রতিকুল অবস্থা থেকে রক্ষা করে। যেমনঃ অতিরিক্ত আলো, আঘাত প্রচন্ড ঠান্ডা, বাতাস ইত্যাদি।
# বাইরের কোন কিছু পড়লে তা পরিষ্কার করতে সাহায্য করে।
# কর্নিয়াকে পুষ্টি সরবরাহ করে।


কনজাংটিভাঃ
ক্লেরার বাইরে চোখের পাতার ভিতরে আবরণকে কনজাংটিভা বলে। এর মধ্যে বিভিন্ন গ¬্যান্ড চোখের পানি তৈরীতে অংশ নেয়। এতে জীবানুনাশক শক্তি থাকে। এতে কোন প্রদাহ হলে চোখ লাল হয়ে যায়।
আইরিশ ঃ (চোখের বাদমী অংশ)
এর বিভিন্ন রং এর জন্যই মানুষের চোখের রং বদলায়।
আইরিশের ঠিক মাঝে দ্বিন্দ্রেরা নাম পিউপিল।
আলোর কম বেশির কারণে পিউপিল ছোট/বড় হয়
এবং পরিমিত আলো প্রবেশ করতে সাহায্য করে।
স্কে¬রা (চোখের সাদা অংশ)ঃ
চোখের কালো অংশের চারপাশে সাদা রং এর একটি শক্ত আবরন থাকে একে স্কে¬রা বলে। এই স্কে¬রার উপর একটি পাতলা আবরণ থাকে এর নাম কনজাংটিভা।
কর্নিয়াঃ
১ কর্নিয়া চোখের সামনে গম্বুজ আকৃতির স্বচ্ছ আবরন।
১ ইহা আমাদের ভাগ দৃষ্টি শক্তি প্রদর্শন করে।
১ এটা আমাদের হাত ঘড়ির উপরের স্বচ্ছ কাঁচের মত।
১ এর মাধ্যমে আমরা সব কিছু ভালো দেখতে পাই।
পিউপিলঃ
আইরিশের মাঝখানে গোলাকৃতি ছিদ্র যার মাধ্যমে আলো চোখে প্রবেশ করে।
লেন্স ঃ
আইরিশের পিছনে কাঁচের মত একটি স্বচ্ছ অংশ থাকে যার নাম লেন্স। এই লেন্স পিউপিলের ভিতর দিয়ে দেখা যায়। কোন কারনে যদি এই লেন্স অস্বচ্ছ বা ছানিতে পরিনত হয় তাহলে আইরিশের মাঝের ছিদ্র অর্থাৎ পিউপিল দিয়ে এই ছানিকে টর্চ দিয়ে দেখলে সাদা মুক্তার মত দেখাবে।
ভিট্রিয়াসঃ
জেলির মত স্বচ্ছ পদার্থ যা লেন্সের পেছনে খালি জায়গায় থাকে।
চোখের স্বাভাবিক গোলাকৃতি বজায় রাখতে ভিট্র্রিয়াস প্রয়োজন হয়।
রেটিনাঃ
চোখের পিছনের আবরন যার উপর দৃশ্যমান বস্তুর
প্রতিবিম্ব তৈরী হয়। এটি চোখের দৃষ্টি অনুুভুতি তৈরী করে।
অপটিক নার্ভ ঃ (স্নায়ু)
চোখ ও মস্তিকের সংযোগকারী স্নায়ুই হচ্ছে অপটিক নার্ভ। রেটিনার উপর সৃষ্ট প্রতিবিম্বের অনুভুতি অপটিক নার্ভের মাধ্যমে মস্তিকের নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থাপনের পরেই কেবল মানুষ দেখতে পায়। দৃষ্টিহীন জীবন বড় দুঃখের জীবন। কাজেই আমাদেরকে চোখ সম্পর্কে জানতে হবে এবং চোখের যতœ নিতে হবে।


চোখের দৃষ্টি শক্তির ক্রটিঃ
চোখের দৃষ্টি মানুষকে তার চারপাশের জিনিসগুলোর সাথে পরিচিত হতে সাহায্য করে। আমাদের দৈনদিন্য কাজকর্ম ও চলাফেরার জন্য সঠিক দৃষ্টি শক্তি থাকা একান্ত প্রয়োজন। তবে নানা কারণে এই দৃষ্টি শক্তির তারতম্য হয়ে থাকে। ফলে আমরা আমাদের দৈনদিন কাজ কর্মগুলো ঠিকমত করতে পারি না এতে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। চোখ নিয়মিত ভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা যায় এবং সহজে সমাধান করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব।
তাই দৃষ্টি শক্তির সমস্যা সম্পর্কে আমাদের প্রাথমিক ধারণা থাকা প্রয়োজন।


দৃষ্টি শক্তির সমস্যা সাধারণত ৪ ধরনেরঃ
১ মাইয়োপিয়া (নিকট দৃষ্টি)
১ হাইপার মেট্রোপিয়া (দুর দৃষ্টি)
১ ত্রসটিগমেটিজম (ঝাপসা দৃষ্টি)
১ প্রেসবায়োপিয়া (নিকট দৃষ্টি সমস্যা)


মায়োপিয়া ঃ-
চোখের সাইজ বড় হলে ফোকাস রেটিনার সামনে পড়ে। সাধারণত শিশুদের হয়। যাদের মায়োপিয়া আছে তারা চোখের সামনে বই ধরে পড়ে। বোর্ডে লেখা ঠিকমত দেখতে বা পড়তে পারে না। তাদের চোখ ট্যারা হতে পারে। এ ব্যাপারে শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। তাই স্কুলে ভর্তির আগে অবশ্যই চোখে পরীক্ষা করা উচিত।


প্রতিরোধঃ
১ খোলমেলা/আলোকিত ঘরে লেখাপড়া করাতে হবে।
১ কাজ করার সময় মাঝে মাঝে বিরতি দিতে হবে।
১ ভিটামিন “সি” সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
১ চোখের শুষ্কতা প্রতিরোধের জন্য বেশি করে পানি/তরল খাবার গ্রহন করতে হবে।
১ নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করতে হবে।
১ দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করে প্রয়োজনে চশমা ব্যাবহার করতে হবে।


হাইপার মেট্র্রোপিয়া (কাছে ঝাপসা কিন্তু দুরে ভাল দৃষ্টি)ঃ
চোখের সাইজ ছোট হলে বা কর্নিয়া সমতল হলে আলোর ফোকাস রেটিনার পিছন দিকে পড়ে।
সাধারণত শিশু বা কিশোর কিশোরীদের এই সমস্যা হয় না।
বয়স্কদের হাইপার মেট্রোপিয়া হয়ে থাকে।


প্রতিরোধঃ
১ দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করে চশমা ব্যবহার করলে হাইপার মেট্রোপিয়া ঠিক করা যায়।
১ ভিটামিন “এ” ও “সি” সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে।
১ নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করতে হবে।
এসটিগমেটিজম (ঝাপসা দৃষ্টি)ঃ
১ দুরে ও কাছে সব কিছুই ঝাপসা দেখে
১ মাথা ব্যাথা হয়।
১ চোখে যন্ত্রনা হয়।
এ রোগ প্রতিরোধের নির্দিষ্ট উপায় নেই-
কর্নিয়াতে ঘা হলে বা অপারেশনের পর হতে পারে।
হাইপার মেট্র্রোপিয়া (কাছে ঝাপসা কিন্তু দুরে ভাল দৃষ্টি)ঃ
চোখের সাইজ ছোট হলে বা কর্নিয়া সমতল হলে আলোর ফোকাস রেটিনার পিছন দিকে পড়ে।
সাধারণত শিশু বা কিশোর কিশোরীদের এই সমস্যা হয় না।
বয়স্কদের হাইপার মেট্রোপিয়া হয়ে থাকে।


প্রতিরোধঃ
১ দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করে চশমা ব্যবহার করলে হাইপার মেট্রোপিয়া ঠিক করা যায়।
১ ভিটামিন “এ” ও “সি” সমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে।
১ নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করতে হবে।
এসটিগমেটিজম (ঝাপসা দৃষ্টি)ঃ
১ দুরে ও কাছে সব কিছুই ঝাপসা দেখে
১ মাথা ব্যাথা হয়।
১ চোখে যন্ত্রনা হয়।
এ রোগ প্রতিরোধের নির্দিষ্ট উপায় নেই-
কর্নিয়াতে ঘা হলে বা অপারেশনের পর হতে পারে।
প্রেসবায়োপিয়া/চালশে ঃ
সাধরনত প্রতিটি মানুষের ৪০ বছর বয়সের পর থেকে নিকটে দেখতে সমস্যা শুরু হয় এবং কাছে দেখতে চশমা প্রয়োজন হয়। এতে কাছে দেখার, ফোকাল পয়েন্ট দুরে সরতে থাকে। যত দুরে যায় তত বেশী পাওয়ার প্রয়োজন হয়।
লক্ষণঃ
কাছের জিনিসকে অস্পষ্ট দেখে। যেমনঃ- পেপার পড়া, মোবাইল নাম্বার দেখা, সেলাই করা, সুই সুতার কাজ, কোরআন তেলাওয়াত, মাথার উকুন আনতে ইত্যাদি সমস্যা হয়
দৃষ্টি শক্তি পরীক্ষা করে চশমা ব্যাবহার করলে প্রেসবায়োপিয়া ঠিক করা যায়।
চোখের সাধারন রোগ, সমস্যা ও করনীয়ঃ
কমিউনিটি পর্যায়ে জনগনকে চোখের সাধারন রোগ, সমস্যা ও করনীয় সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আমাদের এ বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা একান্ত প্রয়োজন।
যদি প্রাথমিক অবস্থায় চোখের এই সব সাধারন সমস্যাগুলো সঠিক পরিচর্যা করা যায় তাহলে আমাদের দেশের অন্ধতের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
চোখে কোন কিছু পড়লে যেমনঃ- বালি, ধুলিকনা, পতঙ্গ, লোহার টুকরা, কাঠের টুকরা, বন্দুকের গুলির পিলেট ইত্যাদি।
ধুলিকনা বালি চোখের পানিতে আপনা আপনি বেরিয়ে আসে। কিন্তু যে সমস্ত বস্তু কর্নিয়ার সাথে লেগে যায় বা গেথে যায় সেগুলো চোখে দারুন যন্ত্রনা দেয়। যদি এগুলো তাড়াতাড়ি চোখ থেকে বের করা না হয় তাহলে তা দৃষ্টি শক্তির মারাতœক ক্ষতি করে।


লক্ষণঃ চোখ খোচা খোচা লাগবে, পানি পড়ে, রোগী তাকাতে পারে না, চোখে জ্বালা হয়, চোখ লাল হয়ে যায়।
করনীয় ঃ
কখনো ঘষা দিবেন না, তুলা দিয়ে আলতো ভাবে বের করুন।
কর্নিয়া তে থাকলে স্পর্শ না করে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।
চোখে আঘাতঃ
দুর্ঘটনা ও খেলার সময় যেমন বেট/টেনিস বল, ছুরি, কাচি, বে¬ড, ধারালো বস্থু দ্বারা আঘাত, ঘুষির আঘাত,
বন্দুকের গুলির পিলেট চোখে ঢুকে গেলে, কলমের আঘাত, ধানের পাতার ঘষা ইত্যাদি। দ্রুত চিকিৎসা না করালে দৃষ্টি শক্তি কমে যায় এমন কি অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
লক্ষনঃ তাকাতে পারে না, চোখের পাতা ফুলে যায় আলো সহ্য হয় না। ব্যাথ হয় পানি পড়ে, ঝাপসা দেখে চোখের ভিতর রক্ত জমা হতে পারে


করনীয় ঃ বাইরের ময়লা পরিষ্কার করতে হবে। হালকা বেন্ডেজ দিয়ে চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে দ্রুত যোগাযোগ করুন।
রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে পুড়ে গেলেঃ
১। কোন রাসায়নিক পদার্থ পড়লে চোখ পুড়ে যায়।
১। আমরা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে থাকি, যা ব্যবহারের সময় তা চোখে পড়তে পারে। যেমনঃ চুন, সালফিউরিক এসিড বা চুন পড়লে চোখের ভিতরে তা অতি তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে। কর্নিয়াতে ঘা হয় অথবা কর্নিয়া সাদা হয়ে যায়। হঠাৎ দৃষ্টি শক্তি কমে যেতে পারে।
করনীয়ঃ
তাৎক্ষনাৎ প্রচুর পরিমানে পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন। প্রয়োজনে ১ ঘন্টা যাবত আক্রান্ত চোখে পানি ঢালুন। জীবানু নাশক মলম লাগিয়ে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।

কনজাংটিভাইটিসঃ
একটি অতি পরিচিত রোগ কনজাংটিভায় প্রদাহ সাধারনত ব্যাকটোরিয়া, ভাইরাস ও এলার্জীর কারনে হয়ে থাকে।
লক্ষণঃ
১। চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে যায়।
২। চোখের পাতা ফুলে যায়।
৩। চোখ দিয়ে পিচুটি আসতে থাকে।
৪। ঘুম থেকে উঠার সময় দুই পাতা
পিচুটি দিয়ে আটকে থাকে
করনীয় ঃ
১। সারাক্ষন পরিষ্কার রুমাল/টিসু দিয়ে চোখ পরিষ্কার করুন।
২। জীবনুনাশক চোখের ড্রপ ও মলম দিন।
১ তিন দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন

সদ্যজাত শিশুর কনজাংটিকায় প্রদাহঃ
১। বাচ্চা ভুমিষ্ট হওয়ার সময়,গনোরিয়া আক্রান্ত মায়ের বার্থ কেনেল থেকে বাচ্চার চোখ সংক্রামিত হলে এমন হয়।
২। বাচ্চার বাবা থেকে সাধারনত মায়ের শরীরে এ রোগ ছড়ায়।
লক্ষণঃ
মা অভিযোগ করেন জন্মের অল্প পর থেকেই চোখ দিয়ে ঘন পুঁজ আসছে চোখের পাতা ফুলে যায় এতে শিশু অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
করনীয় ঃ
এতে বাচ্চার সাথে বাবা ও মায়ের চিকিৎসার প্রয়োজন ।
কর্নিয়াতে ঘাঃ
আমাদের দেশে প্রায়ই হয়ে থাকে। সাধারনত ধানের পাতার আঘাতের পর এই ঘা বেশী ছড়ায়।
লক্ষণঃ
১। মনিতে সাদা দাগ হয় ও ঘা হয়, চোখ লাল হয়।
২। চোখের পাতা ফুলে যায়।
৩। দৃষ্টি শক্তি কমতে থাকে।
৪। আলোর দিকে তাকানো যায় না।
৫। অনেক সময় চোখ ফুটো হয়ে যায়।
করনীয় ঃ
তৎক্ষনাৎ চক্ষু বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা নিতে হবে
চোখে পানি লাগানো যাবে না। প্রয়োজনে অপারেশন করাতে হবে।

ভিটামিন এ অভাব জনিত অন্ধত্ব ঃ
শিশু দীর্ঘদিন ভিটামিন “এ” যুক্ত খবার না খেলে এই অন্ধত্ব দেখা দেয়।
লক্ষণঃ
প্রাথমিক অবস্থায় শিশু সকাল বেলায় বা কম আলোতে এবং রাতে কম দেখে একেই রাতকানা বলে।
কনজাংটিভায় সাদা দাগ হয় (বিটল স্পট)।
কর্নিয়াতে ঘা হয়।
আস্তে আস্তে কর্নিয়া শুকিয়ে যায়
রোগী অন্ধ হয়ে পড়ে।

করনীয় ঃ
১। ভিটামিন এ ক্যাপসুল ২ লাখ ইউনিট খেতে দিন।
২। ১ম দিন ১টা
৩। ২য় দিন ১টা
৪। ১৪তম দিন ১ টা
৫। শিশুর বয়স ৬মাস থেকে ১১ মাস হলে ডোজ অর্ধেক।
৬। শিশুদের হলুদ রং এর ফলমূল শাকসবজী ছোট মলা ঢেলা খেতে দিন। এতে প্রচুর ভিটামিন এ পাওয়া যায়।
চোখের মাংস বৃদ্ধি (টেরিজিয়াম)
কনজাংটিভায় নাকের দিক থেকে কর্নিয়ার উপর লালচে রং এর মাংস বৃদ্ধি হওয়াকে টেরিজিয়াম বলে।
যারা সাধারনত অধিক সময় সূর্যের আলোতে কাজ করেন তাদের টেরিজিয়াম হয়ে থাকে।
লক্ষণঃ
টেরিজিয়াম বৃদ্ধি পেয়ে কর্নিয়ার মাংস পর্যন্ত চলে আসতে পারে। এতে দৃষ্টি প্রতিবন্দকতা তৈরী হয় এতে চোখ থাকিতে অন্ধ হয়ে যায়।
চিকিৎসাঃ
এ ধরনের রোগী মাংস অপারেশন করে সারানোর জন্য চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠাতে হবে।

ডায়াবেটিক রোগীর ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথিঃ
ডায়াবেটিস রোগীর সবচেয়ে বেশী ঝুকিপূর্ণ অঙ্গ হল চোখ। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে না থাকলে চোখের পেছনের দিকে রেটিনাতে বিভিন্ন ধরনের ময়লা জমা হয়। বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। রক্তনালী থেকে রক্তক্ষরণ সহ নানা সমস্যা তৈরী হয়। এবং স্থায়ী ভাবে দৃষ্টি নষ্ট হতে থাকে। চোখে কোন ব্যাথা না হওয়ায় রোগী অনেক ক্ষেত্রে বুঝতে পারেন না।
করনীয় ঃ
১। ডায়াবেটিক প্রথম থেকেই নিয়ন্ত্রনে রাখতে হবে।
২। বছরে কমপক্ষে দুই বার চেখের ফান্ডাস ও রেটিনা পরীক্ষা করতে হবে কোন পরিবর্তন/ সমস্যা আছে কিনা।
৩। সমস্যা থাকলে চিকিৎসা নিতে হবে।

চোখের ছানীঃ
(ছানী চোখের উপড় কোন পর্দা পড়া নয়)
চোখের স্বচ্ছ লেন্স আস্তে আস্তে অস্বচ্ছ হয়ে যাওয়াকে ছানী পড়া বলে। এতে আস্তে আস্তে চোখের দৃষ্টি কমে যায়
ছানীর কারণঃ
প্রথমত জন্মগত ভাবে।
দ্বিতীয়ত অর্জিত ভাবে, যেমনঃ
১। বয়স জনিত কারনে
২। আঘাত জনিত
৩। দীর্ঘ দিন ষ্টেরয়েড জাতীয় ঔষধ ব্যবহারে
৪। বিভিন্ন রোগের কারনে যেমনঃ- ডায়বেটিস, চর্ম রোগ।

লক্ষণ সমূহঃ
১। চোখের কাল তারা সাদা/ঘনসাম/ধুসর হবে
২। চোখের দৃষ্টিশক্তি আস্তে আস্তে কমে যাবে।
৩। চোখে ঝাপসা/কুয়াশা দেখে
৪। লেখাপড়া করতে অসুবিধা হয়
৫। একা একা চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়
করনীয় ঃ
১। ছানী ঔষধ ব্যাবহার করে পরিষ্কার করা যায় না।
২। ছানী একমাত্র অপারেশনের মাধ্যমেই চিকিৎসা করা যায়।
৩। বর্তমানে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ছানী অপারেশনের পর চোখে কৃত্রিম লেন্স লাগিয়ে দেয়া হয় যাতে রোগী পূর্বের ন্যায় দেখতে পারে।
৪। এই লেন্স চোখে আজীবন অপরিবর্তিত থাকে।

জাতীয় অন্ধত্ব ক্ষীনদৃষ্টি জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি
২০০০ সালে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট ঢাকা সাইট সেভার্স-ইন্টারন্যাশনাল ও লন্ডন স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন এর সহায়তায় বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধত্ব ও ক্ষীনদৃষ্টি জরিপ পরিচালনা করে। বাংলাদেশের ৬টি বিভগে ত্রিশোর্ধ লোকদের মাঝে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে মোট ১২ মাস স্যাম্পল নিয়ে জরিপ করা হয়। জরিপ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদি নিম্নে দেয়া হল-
১। মোট ত্রিশোর্ধ জনসংখ্যার ১.৫৩% অন্ধত্ব বা ছানী প্রতিবন্ধী তার মধ্যে ৮০% ছানী জনিত কারনে অন্ধ
২। বাংলাদেশে প্রায় সাত লাখ অন্ধ বা দৃষ্টি প্রতিবন্ধি আছে
৩। প্রতি বছর আরো প্রায় দেড় লাখ নতুন অন্ধ লোক এর সাথে যোগ হচ্ছে
৪। দৃষ্টি শক্তি ঠিক না করা - ৬২%
৫। এ. আর. এম. ডি - ৩.১%
৬। অলস চোখ- ২.৫%
৭। ত্র“টিযুক্ত দৃষ্টি শক্তি ১.২%
৮। গ¬কোমা - ১.২%
৯। অন্যান্য - ১.২%
প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার প্রতি বছর ২৫০০-৩০০০ ছানী অপারেশন প্রয়োজন। বর্তমানে সেক্ষেত্রে মাত্র ১০০০ অপারেশন হচ্ছে।

বাংলাদেশে শিশু অন্ধত্বের বর্তমান চিত্র ও কারনঃ
শিশু অন্ধত্ব বাংলাদেশে শিশু স্বস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকির সৃষ্টি করছে। গত ২০০০ সালের ইধহমষধফবংয ঘধঃরড়হধষ ইষরহফহবংং ধহফ ষড়ি ারংরড়হ ংঁৎাবু থেকে জানা যায় যে প্রতি ১০ লাখ জনসংখ্যার ৯৯২৫ জন শিশু দৃষ্টি জনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং ৩০০ শিশু অন্ধত্বের শিকার হচ্ছে ও এদের মধ্যে ১০০ জন্যই ছানী জনিত কারণে অন্ধ।
বাংলাদেশে প্রায় ৪,০০০০০ শিশু অন্ধ। তার মধ্যে ১২০০০ ছানী জনিত কারণে অন্ধ। এ ছাড়াও এ জরীপের মাধ্যমে ৬৪টি জেলায় প্রায় ১৯৩৫ জন অন্ধ ও মারাত্মক দৃষ্টি প্রতিবন্ধি শিশু চিহ্নিত করা হয়। এদের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাওয়া গেছে ৩৯৫ জন ২০% পুনর্বাসন প্রকল্পে ১৫% কমিউনিটি প্রধান তথ্য সরবরাহকারী মাধ্যমে পাওয়া গেছে ১২৪৫ (৬৫%)।
এই জরিপে শিশু অন্ধ/ক্ষীন দৃষ্টি সম্পন্ন হওয়ার কারণ ও তার হারও উলে¬খ করা হয়েছে তা হলো:
১। দৃষ্টি শক্তির অস্বাভাবিকতা ৩১%।
২। সঠিক সময় ছানী অপারেশন না করা ২৭%।
৩। ভিটামিন এ এর অভাবে কর্নিয়া নষ্ট হওয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া ২৭%।
৪। এ¤ব¬ায়োপিয়া/এফাকিয়া ৪%।
৫। অন্যান্য ১১%।

আরো উল্লেখ করা হয়:
১। ৩২% শিশুকে অন্ধত্বের হাত থেকে সহজেই প্রতিরোধ করা যায় এবং
২। ৩৬% শিশুকে চিকিৎসার মাধ্যমে দৃষ্টি ফিরিয়ে আনা যায়
৩। সুতরাং ৬৮% শিশুর অন্ধত্ব সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ময়মনসিংহ অঞ্চলে ৬টি জেলায় প্রতি ১০ লাখ মানুষের মধ্যে প্রতি বছর ২৫০০-৩০০০ ছানী অপারেশন প্রয়োজন বর্তমানে সেক্ষেত্রে মাত্র ১০০০ এর ও কম অপারেশন হচ্ছে।
সুতরাং বলা যেতে পারে
সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলে বাংলাদেশের অন্ধত্বের হার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
আর এজন্য প্রয়োজন অন্ধত্বের কারণ, লক্ষন ও প্রতিরোধ সম্পর্কে জনগনকে সচেতন করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগীতা প্রদান করা।

সচেতনতা:
রোগ বাড়লে রাতে এমনকি দিনের বেলাতেও চলাফেরা করতে অসুবিধা হয়। দৃষ্টির সুক্ষèতা কমে যাওয়ায় লেখাপড়া খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সাধারণত দেখা যায় এ সময় রোগী ভগ্ন স্বাস্থ্য, পুষ্টিহীনতা ও ভিটামিনের অভাবে ভোগেন। ধুমপান বন্ধ করে চিকিৎসা করলে অরোগ্য হওয়া সম্ভব।

আমরা চোখের তেমন যত্ন নেই না। চোখের মূল যত্নটুকু চোখ নিজেই নিয়ে থাকে, নইলে ভাল থাকার কোন উপায় ছিল না। তবুও আমার আপনার দায়িত্বে যাতে চোখ ভাল থাকে সে জন্য তার যতœ নেওয়া। এই সুন্দর পৃথিবীর সবকিছু বৃথা মনে হয় যখন কেউ ভাবে সে আর দেখতে পাবে না। চোখে কোন বস্তুর ছায়া পড়লে তা বৈদ্যুতিক তরঙ্গে রূপান্তরিত হয়ে অক্ষি স্নায়ুর ভিতর দিয়ে মস্তিকের এক বিশেষ অংশে যায় এবং আমাদের সে বস্তু সম্পর্কে ধারনা দেয় অর্থাৎ আমরা দেখি।

দৃষ্টিহীন জীবন বড় দুঃখের জীবন। কাজেই আমাদের চোখের যত্ন নিতে হবে। চোখ সম্পর্কে জানতে হবে। চোখ নিজের যত্ন নিজেই নিয়ে থাকে বিভিন্নভাবে। চোখে কোন কিছু পড়ার আগেই চোখের পাতা বন্ধ হয়ে যায়। এমনকি অন্ধকারেও নিজের অজান্তেই তা হয়। চোখের পানি চোখের পলক সারাক্ষণ ধুলো-বালি, ময়লা, ধুয়ে মুছে দিচ্ছে। চোখ মুছার জন্য সব সম টিস্যু পেপার, কাপড় বা রুমাল ব্যবহার করুন। কখনো শাড়ি লুঙ্গি বা শার্টের হাতা দিয়ে চোখ মুছবেন না। এতে করে চোখ সংক্রামিত জীবানু দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে এবং এভাবে চোখ উঠা ও আরো অনেক চোখের রোগ ছড়ায়। চোখ মুখ মুছার জন্য প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন কাপড় তোয়ালে বা রুমাল ব্যবহার করা উচিৎ।

রাতে ঘুমানোর আগে চোখ ভাল করে ধুয়ে নেয়া ভাল। এভাবে সারা দিনে চোখে যে ময়লা জমে তা সহজেই দূর হয়ে যায়। কাজল বা এ জাতীয় প্রসাধনী ব্যবহারের জন্য প্রত্যেকের আলাদা কাঠি থাকা উচিৎ। কাজল ব্যবহার করতে হলে বাড়ীতে কাজল তৈরী করে নিন। সুরমাতে বর্তমানে দস্তা বা সীসার সালফাইড মেশানো হচ্ছে। এগুলো মূলত বিষ। এসব ব্যবহারে চোখের পর্দা ক্ষয়ে যায়, ঘা হয়। দীর্ঘ ব্যবহারে চোখ নষ্ট হতে পারে।

নিয়মিত প্রচুর সবুজ ও হলুদ রং এর শাক-সবজি খান, ছোট-বড় মাছ বিশেষ করে মলা ঢেলা পাকা ফল এসবে প্রচুর ভিটামিন থাকে।
মনে রাখবেন চক্ষু ডাক্তারের পরামর্শ ব্যতিত চোখে ঔষধ দিবেন না।
পরামর্শ দাতা যদি আপনার নিকট আত্মীয়ও হন তবুও না।
১। চোখের কর্নিয়া সাদা হলে সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
২। শিশুর চোখ টেরা হলে উপযুক্ত চিকিৎসা বা চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
৩। চোখে কখনই গাছ-গাছালি বা কবিরাজি ঔষধ দিবেন না বা লাগাবেন না।
৪। শিশুর চোখে আঘাত লাগলে সঙ্গে সঙ্গে চক্ষু হাসপাতালে পাঠিয়ে দিন।
৫। চোখে চুন/রাসায়নিক পদার্থ পড়লে সঙ্গে সঙ্গে প্রচুর পরিমানে পানি দিয়ে ধুয়ে দিন ও হাসপাতালে পাঠিয়ে দিন।